গোপালগঞ্জে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক প্রভাব অন্য যেকোনো জেলার তুলনায় অনেক বেশি। গোপালগঞ্জে দীর্ঘদিন ধরেই আওয়ামী লীগের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। স্বাধীনতার পর থেকে এখন পর্যন্ত জেলার অধিকাংশ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় ধরে রেখেছিল দলটি। তবে গণঅভ্যুত্থানের পর আসন্ন নির্বাচনের আগে ঘাঁটিটি দখলে নিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে বিএনপি-জামায়াত ইসলামী সহ সতন্ত্র প্রার্থীরা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, গোপালগঞ্জে আওয়ামী লীগের জনপ্রিয়তা ভাঙা সহজ নয়। বঙ্গবন্ধুর জন্মভূমি হওয়ায় জেলার সাধারণ মানুষ দলটির সঙ্গে আবেগ ও ঐতিহ্যের সূত্রে গভীরভাবে যুক্ত। পাশাপাশি দীর্ঘদিনের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডও আওয়ামী লীগের ভোটব্যাংককে শক্তিশালী করেছে।
অন্যদিকে জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নেতারা দাবি করছেন, “আওয়ামী লীগের দুঃশাসন ও দমননীতি দেখে জনগণ পরিবর্তন চায়। গোপালগঞ্জেও তরুণ প্রজন্ম পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুত।” আসন্ন নির্বাচনে গোপালগঞ্জে প্রতিদ্বন্দ্বিতা জমে উঠবে কিনা—তা সময়ই বলে দেবে। তবে বিএনপি এবং জামায়াতের সক্রিয় তৎপরতায় আওয়ামী লীগের ঘাঁটিতে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ছে।
গোপালগঞ্জের ৩টি আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন ৩৮ জন প্রার্থী। সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় এবং নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ে এসব মনোনয়নপত্র জমা দেন তারা। এদিন ছিল ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়নপত্র সংগ্রহের ও জমা দেওয়ার শেষ দিন। জেলার ৩টি আসনে ৩৮ জন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এর মধ্যে গোপালগঞ্জ-১ আসনে ১৩ জন, গোপালগঞ্জ-২ আসনে ১৩ জন এবং গোপালগঞ্জ-৩ আসনে ১২ জন।
জেলা রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, গোপালগঞ্জ-১ (মুকসুদপুর ও কাশিয়ানীর একাংশ) আসনে মো. সেলিমুজ্জামান সেলিম (বিএনপি), সুলতান জামান খান (জাতীয় পার্টি), মো: কাবির মিয়া (গণঅধিকার পরিষদ), মোঃ মিজানুর রহমান (ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ), মো: জাকির হোসেন (জনতার দল), মুহাম্মদ মাওলানা আব্দুল হামিদ (জামায়াতে ইসলামী), নীরদ বরন মজুমদার (কমিউনিস্ট পার্টি), ইমরান হোসেন আফসারী (খেলাফত মজলিস), প্রিন্স আল আামিন (এবি পার্টি), এম আনিসুল ইসলাম (স্বতন্ত্র), আশরাফুল আলম (স্বতন্ত্র), নাজমুল আলম (স্বতন্ত্র) কাইয়ুম আলী খান (স্বতন্ত্র)।
গোপালগঞ্জ-২ (গোপালগঞ্জ সদর ও কাশিয়ানীর একাংশ) কে এম বাবর (বিএনপি), মাহামুদ হাসান (জাকের পার্টি), তসলিম হোসাইন সিকদার (ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ), শাহ মফিজ (গণফোরাম), শোয়াইব ইব্রাহিম (খেলাফত মজলিস), দ্বীন মোহাম্মদ (গণঅধিকার পরিষদ) এমএইচ খান মঞ্জু (স্বতন্ত্র), শিপন ভূঁইয়া (স্বতন্ত্র), সিরাজুল ইসলাম সিরাজ, (স্বতন্ত্র), কামরুজ্জামান ভূঁইয়া (স্বতন্ত্র), উৎপল বিশ্বাস (স্বতন্ত্র), রনি মোল্লা (স্বতন্ত্র), মশিউর রহমান (স্বতন্ত্র), মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। এ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থীর বাইরে দলের দুই শীর্ষ নেতা এমএইচ খান মঞ্জু ও সিরাজুল ইসলাম স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। তারা দুজনই বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন। এ ছাড়া দুই জন জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি।
গোপালগঞ্জ-৩ (টুঙ্গিপাড়া-কোটালীপাড়া) আসনে এস এম জিলানী (বিএনপি), শেখ সালাউদ্দিন (ন্যাশনাল পিপলস পার্টি), মোঃ মারুফ শেখ (ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ), মো: আরিফুল দাড়িয়া (জাতীয় নাগরিক পার্টি), দুলাল চন্দ্র বিশ্বাস (গণফোরাম), আলী আহমেদ (খেলাফত মজলিস), এম এম রেজাউল করিম (জামায়াতে ইসলামী), আবুল বশার (গণঅধিকার পরিষদ), আ: আজিজ (বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস), হাবিবুর রহমান (স্বতন্ত্র), গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক (স্বতন্ত্র), রওশন আরা (এস এম জিলানীর স্ত্রী ও গোপালগঞ্জ মহিলা দলের সভাপতি (স্বতন্ত্র) মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।
জেলা নির্বাচন কার্যালয় সূত্র আরও জানায়, গোপালগঞ্জে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় কোনও বিশৃঙ্খলা বা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। পুরো প্রক্রিয়া শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে। “এ পর্যন্ত সবাই আচরণবিধি অনুসরণ করছে। এখন পর্যন্ত আলহামদুলিল্লাহ, পরিবেশও ভালো রয়েছে। এখনও কেউ অভিযোগ করেনি।” মনোনয়নপত্র বাছাই ৩০ ডিসেম্বর থেকে ৪ জানুয়ারি, রিটার্নিং অফিসারের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল দায়েরের শেষ তারিখ ৫-৯ জানুয়ারি, কমিশনে দায়েরকৃত আপিল নিষ্পত্তি ১০ জানুয়ারি থেকে ১৮ জানুয়ারি, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২০ জানুয়ারি, চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ ও প্রতীক বরাদ্দ ২১ জানুয়ারি, নির্বাচনি প্রচারণা ২২ জানুয়ারি থেকে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত, ভোটগ্রহণ ১২ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা।

শুক্রবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫

আপনার মতামত লিখুন